মাটির গুণাগুণ (পাঠ-৩)

কৃষি উপকরণ - কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

713

ফসল উৎপাদনে মাটির গুণাগুণ প্রভাব বিস্তার করে। কোন মাটিতে কোন ধরনের ফসল উৎপাদন করা যাবে তা মাটির গুণাগুণের উপর নির্ভর করে। মাটির সকল গুণাবলিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- (ক) ভৌত গুণাগুণ (খ) রাসায়নিক গুণাগুণ
(গ) জৈবিক গুণাগুণ।

(ক) মাটির ভৌত গুণাগুণ: মাটির ভৌত গুণাগুণ বলতে ১) মাটির বুনট ২) মাটির সংযুতি ৩) মাটির ঘনত্ব ৪) মাটির বর্ণ ৫) মাটির তাপমাত্রা ৬) মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ৭) মাটির বায়ু চলাচল ইত্যাদিকে বোঝায়।
(খ) মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ: মাটির রাসায়নিক গুণাগুণ বলতে ১) মাটির অম্লত্ব ক্ষারত্ব ২) উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ৩) মাটির লবণাক্ততা ইত্যাদিকে বোঝায়।
(গ) মাটির জৈবিক গুণাগুণ মাটির জৈবিক গুণাগুণ বলতে ১) অণুজীবের প্রকার ২) অণুজীবের সংখ্যা ৩) অণুজীবের কার্যাবলি ইত্যাদিকে বোঝায়।

কৃষি ফলনে মাটির গুণাগুণের গুরুত্ব: ফসল উৎপাদনে মাটির গুণাগুণের গুরুত্ব অপরিসীম। মাটির ভৌত গুণাবলির মধ্যে মাটির বুনট, মাটির সংযুতি, মাটির ঘনত্ব ইত্যাদি ফসল উৎপাদনে প্রভাব বিস্তার করে। মাটির বুনটের পার্থক্যের কারণে মাটিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। দোআঁশ মাটিতে অধিকাংশ ফসল ভালো জন্মে। এঁটেল মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেশি বলে এ মাটিতে ধান ভালো জন্মে। বেলে মাটিতে বাদাম, আলু, ফুটি, তরমুজ ইত্যাদি ফসল জন্মে। মাটির বালি, পলি ও কর্দমকণা যে দলাকৃতিতে সজ্জিত থাকে তাকে মাটির সংযুতি বলে। দানাদার, চুর্ণাকার সংযুতি ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী। থালাকার সংযুতির মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বেশি। মাটির রাসায়নিক গুণাগুণের মধ্যে মাটির অম্লত্ব, ক্ষারত্ব, লবণাক্ততা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ফসল বেশি অম্লীয়, ক্ষারীয় বা লবণাক্ততা পছন্দ করে না অর্থাৎ নিরপেক্ষ মাটি ফসল চাষের জন্য বেশি উপযোগী। এ ধরনের মাটিতে উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে ও অণুজৈবিক কার্যাবলি সক্রিয় থাকে।

কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাক্টেরিয়া, শৈবাল ইত্যাদি জীব ও অণুজীবের সংখ্যা, প্রকার এবং ক্রিয়াকলাপই মাটির জৈবিক গুণাবলি। এসব জীব ও অণুজীব মাটিতে হিউমাস উৎপাদন ও ফসলের জন্য পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য করার মাধ্যমে প্রভূত উপকার করে।

কাজ: বেলে, দোআঁশ ও এঁটেল মাটির গুণাগুণগুলো লিখে উপস্থাপন কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...